বাইরের খাবার নয়, ঘরের রান্নাই ভরসা


চড়া দামের এই সময়ে বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করা অনেক পরিবারের কাছেই এখন বিলাসিতা। বিশেষ করে পরিবার বড় হলে তো কথাই নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এমন বাস্তবতায় সাত সন্তানের মা মেরি নিলিস ফিরে গেছেন ঘরের রান্নায়—আর সেখানেই খুঁজে পেয়েছেন স্বস্তি ও সাশ্রয়।

মেরির পরিবারে মোট সদস্য নয়জন। তিনি জানান, একবার টেকআউট খাবার আনলেই খরচ পড়ে প্রায় ২০০ ডলার। নিয়মিত এই খরচ বহন করা সম্ভব না হওয়ায় ঘরেই প্রতিদিন রাতের খাবার রান্নার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে বিষয়টি তাঁর কাছে কেবল দায়িত্ব নয়, বরং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি উপায়।

প্রতিদিনের রান্নার এই গল্প তিনি ভাগ করে নিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ‘7kidskitchen’ নামে টিকটক ও সাবস্ট্যাকে তিনি দেখান, বড় পরিবারেও কীভাবে সহজ, সাশ্রয়ী আর খানিকটা স্বাস্থ্যকর খাবার বানানো যায়।

মেরি বলেন, “আমাদের রান্নাঘর কোনো ম্যাগাজিনের মতো সুন্দর নয়। এখানে শিশুরা দৌড়ায়, কেউ পানি চায়, কেউ পাশে দাঁড়িয়ে গল্প করে। তবুও এই রান্নাঘরেই দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টা কাটে।”

তার ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, ২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা কখনো রান্নায় সাহায্য করছে, কখনো শুধু মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। এই স্বাভাবিক দৃশ্যই দর্শকদের কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।

খাবারের তালিকায় থাকে চিকেন কাটলেট, ট্যাকো, স্টেক আর ম্যাশড পটেটো, ফ্রাইড রাইস কিংবা চিলি। সপ্তাহান্তে কখনো প্যানকেক, কখনো ঘরে তৈরি বেকারি খাবার। অবশ্য মাঝে মধ্যে পিজা বা চাইনিজ খাবারও আসে টেবিলে।

মেরির বোন ভিডিও ধারণ ও সম্পাদনার কাজ করেন, আর তাঁর স্বামী—একজন দমকলকর্মী—পরিবারের বাজেট সামলাতে সহায়তা করেন। বড় পরিবারে বড় হওয়ায় রান্নাকে তাঁরা কেউই আলাদা কিছু মনে করেন না।

সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার সহজ রাখাই মেরির কৌশল। নাশতায় সিরিয়াল বা ব্যাগেল, আর শিশুদের স্কুলের জন্য থাকে স্যান্ডউইচ।

মেরির মতে, সব খাবার সব সময় নিখুঁত হয় না। তবে চেষ্টা থাকে যেন ঘরের খাবারেই সবাই তৃপ্ত থাকে। “বাইরের দাম যখন এত বেশি, তখন ঘরের খাবারই সবচেয়ে বড় ভরসা,” বলেন তিনি।

মেরি নিলিসের এই গল্প শুধু একজন মায়ের নয়—এটি আজকের অনেক পরিবারের বাস্তবতা, যেখানে ভালোবাসা, যত্ন আর একটু পরিকল্পনাই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় সাশ্রয়।

Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন