জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে তারা আফগানিস্তান–সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ কমিটির ম্যান্ডেট বাড়ানোর বিষয়ে ভোট দেবে। এই কমিটি ‘ইসলামিক আমিরাত’-এর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষণকারী এই দলের ম্যান্ডেট আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে। ওই তারিখ থেকেই ম্যান্ডেট বাড়ানোর খসড়া প্রস্তাবে ভোটাভুটি শুরু করবেন পরিষদের সদস্যরা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আফগানিস্তান–সংক্রান্ত ১৯৮৮ নম্বর নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার আওতায় ইসলামিক আমিরাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনের এক অংশে বলা হয়েছে, “ফেব্রুয়ারিতে পরিষদ ১৯৮৮ আফগানিস্তান নিষেধাজ্ঞা কমিটিকে সহায়তাকারী বিশ্লেষণ ও নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দলের ম্যান্ডেট বাড়ানোর একটি খসড়া প্রস্তাবে ভোট দিতে পারে। পর্যবেক্ষণ দলের বর্তমান ম্যান্ডেট ১৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে।”
এই পর্যবেক্ষণ দলটি মূলত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ শাখা হিসেবে কাজ করে। তারা আফগানিস্তান ১৯৮৮ নিষেধাজ্ঞা কমিটিকে সহায়তা করে এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রতিবেদন দেয়।
দলটির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—
-
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ
-
নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ
-
সন্ত্রাসী অর্থায়নের নতুন পদ্ধতি পর্যালোচনা
-
নিরাপত্তা পরিষদকে সুপারিশ ও পরামর্শ প্রদান
-
নিষেধাজ্ঞার তালিকা পর্যালোচনা
-
দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহায়তা করা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক আমিরাতের কর্মকর্তাদের জন্য ভ্রমণ ছাড় (ট্রাভেল এক্সেম্পশন) দেওয়ার উদ্যোগ আটকে দেয়। এর ফলে কিছু দেশ ছাড়ের আবেদন না করে কেবল নিষেধাজ্ঞা কমিটিকে ওই ভ্রমণের বিষয়ে অবহিত করেছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ আসলাম দানেশিয়ার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র তার রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন ও নীতিগত দাবিগুলো চাপিয়ে দিতে বিভিন্ন নীতি প্রয়োগ করে এবং এখানে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়। তবে আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাই—সংঘাতের বদলে সম্পৃক্ততার নীতি গ্রহণ করতে।”
এ বিষয়ে এখনো ইসলামিক আমিরাতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে অতীতে তারা তাদের কর্মকর্তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল।
উল্লেখ্য, এর আগে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দল ইসলামিক আমিরাতের ৬১ জন জ্যেষ্ঠ সদস্যের নাম প্রকাশ করেছিল। তাঁদের মধ্যে ৩৫ জন ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
