আপনার সকালের সিরিয়াল কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর?


ব্যস্ত সকালের সবচেয়ে সহজ খাবার—এক বাটি সিরিয়াল। দুধ ঢালুন, চামচ নিন, আর খাওয়া শেষ। অনেকেই মনে করেন, সিরিয়াল মানেই স্বাস্থ্যকর নাশতা। কিন্তু হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল–সংশ্লিষ্ট একটি বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তবতা এতটা সহজ নয়।

হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং–এ প্রকাশিত এক ব্লগে চিকিৎসক ও গবেষকরা জানিয়েছেন, বাজারে প্রচলিত বহু জনপ্রিয় ব্রেকফাস্ট সিরিয়ালে চিনি বেশি, ফাইবার ও প্রোটিন কম—যা নিয়মিত খেলে স্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ নাও হতে পারে।

চমকপ্রদ তথ্য কী?

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু ও কিশোরদের লক্ষ্য করে বাজারজাত করা অনেক সিরিয়ালে চিনির পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে বেশি। অথচ প্যাকেটের গায়ে বড় করে লেখা থাকে—‘হার্ট-হেলদি’, ‘হোল গ্রেইন’, ‘ভিটামিনে ভরপুর’। এসব লেখা অনেক সময় বিজ্ঞাপন কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।

হার্ভার্ডের গবেষকদের ভাষায়, গত কয়েক বছরে সিরিয়ালগুলোর পুষ্টিগুণ উল্টো পথে হাঁটছে—ফাইবার ও প্রোটিন কমছে, আর চিনি ও লবণ বাড়ছে।

তাহলে কি সিরিয়াল একেবারেই বাদ?

না, তা নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সিরিয়াল বেছে নিতে পারলে এটি স্বাস্থ্যকর নাশতার অংশ হতে পারে।

সিরিয়াল কেনার সময় যেদিকে নজর দেবেন—

  • প্রথম উপাদান হিসেবে যেন whole grain (সম্পূর্ণ শস্য) লেখা থাকে
  • প্রতি পরিবেশনে কমপক্ষে ৩–৫ গ্রাম ফাইবার
  • চিনি ও সোডিয়ামের পরিমাণ কম
  • অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক নাম কম থাকা
  • পরিমিত পরিমাণে খাওয়া

তুলনামূলক ভালো বিকল্প হিসেবে চিয়ারিওস, অল-ব্র্যান, শ্রেডেড হুইট–এর মতো সিরিয়ালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সিরিয়ালের বাইরেও আছে সহজ সমাধান

প্রতিদিন সিরিয়ালই খেতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সকালের নাশতায় বিকল্প হতে পারে—

  • ফল ও বাদাম দিয়ে ওটমিল
  • ডিম বা দই
  • হোল-গ্রেইন টোস্টের সঙ্গে ফল
  • দই ও ফলের বাটি

সিরিয়াল খারাপ নয়, কিন্তু চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করাও ঠিক নয়। প্যাকেটের ঝকঝকে দাবির বাইরে গিয়ে উপাদানের তালিকা একটু দেখে নিলেই আপনার সকালের নাশতা হতে পারে আরও স্বাস্থ্যকর।

সুস্থ থাকার শুরুটা হোক দিনের প্রথম খাবার থেকেই।

Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন