পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর প্রযুক্তিনির্ভর ও রিয়েল-টাইম নজরদারি ব্যবস্থা চালুর তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেছেন, সব ব্রোকারেজ হাউজের জন্য একটি অভিন্ন ও সুরক্ষিত ‘ব্যাক অফিস সফটওয়্যার’ চালু করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ও গ্রাহক ক্লিয়ারিং হিসাবে থাকা অর্থের রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে প্রতিদিন অর্থের হিসাব সমন্বয় করা গেলে কোনো ঘাটতি বা অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলের অর্থ বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। ব্রোকারেজ হাউজের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মাসুদ খান বলেন, পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজের আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিনিয়োগকারীরা আস্থা নিয়ে পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করেন। সেই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি পুরো পুঁজিবাজারের আস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, ডিএসইর সঙ্গে শক্তিশালী ব্যাক অফিস সফটওয়্যার চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আর্থিক তথ্য রিয়েল-টাইমে পাওয়া যাবে এবং প্রতিদিন পুরো হিসাব মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে।
ব্রোকারেজ হাউজের ব্যাংক হিসাবে কত অর্থ রয়েছে এবং গ্রাহক ক্লিয়ারিং হিসাবে কত টাকা রয়েছে এসব তথ্য নিয়মিত যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সরাসরি তদারকির চাপও কমবে। পাশাপাশি অর্ডার ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার উন্নয়নেও এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে মাসুদ খান বলেন, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল মূলত নিষ্পত্তি ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য গঠন করা হয়েছিল। তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা সামনে আসায় ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ তহবিলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ডিএসইর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি খেলাপি ব্রোকারেজ হাউজের ঘটনায় ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জনের পাওনা ৫ লাখ টাকা বা তার কম। এসব বিনিয়োগকারীর পাওনা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রথম ধাপে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা থাকা বিনিয়োগকারীদের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ৫ লাখ টাকার বেশি পাওনা থাকা বিনিয়োগকারীদের অর্থও পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিএসইসি, ডিএসই এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে অর্থ বিতরণও কোনো একক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ নয়; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। পুঁজিবাজারে ভবিষ্যৎ অনিয়ম ঠেকাতে নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আইপিএফের ভূমিকা তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, তহবিলটি মূলত সেটেলমেন্ট ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য গঠন করা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা সামনে আসায় তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, আইপিএফের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৫ লাখ টাকার নিচে পাওনা থাকা বিনিয়োগকারীরা তাদের পুরো পাওনা ফেরত পাবেন। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৯৬ শতাংশের পাওনা এই সীমার মধ্যে বলে জানান তিনি।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি খেলাপি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ঘটনায় ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জনকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত তাদের পাওনার পুরোটা আইপিএফ থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকার নিচে যাদের পাওনা রয়েছে তাদের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে ৫ লাখ টাকার বেশি পাওনা থাকা বিনিয়োগকারীদেরও পর্যায়ক্রমে অর্থ ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আইপিএফের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমও কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব নয়; বিএসইসি, ডিএসই ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
