আমদানির ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি রপ্তানি আয়। ফলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে দেশের বৈদেশিক পণ্য বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-এপ্রিল সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি, কাঁচামাল আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্রুত বাড়ায় দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি ২৩ লাখ (১৮.২৩ বিলিয়ন) ডলার।
সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট-বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে দেশে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে ৫ হাজার ৮২২ কোটি (৫৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন) ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে প্রথম ১০ মাসে আমদানি হয়েছিল ৫৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
অন্যদিকে আলোচিত সময় পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৬ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের কারণেই চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে বাংলাদেশ।
চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স)
চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু দেশে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স এখন সামান্য ঋণাত্মক আছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে এপ্রিল শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৭ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ১৬৪ কোটি ডলার।
ওভারঅল ব্যালান্স
সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। আলোচিত সময় সামগ্রিক লেনেদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭৪ কোটি ডলার। এই সূচকটি আগের বছর একই সময় (ঋণাত্মক) ৬৫ কোটি ডলার ঘাটতি ছিল।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ২ হাজার ৯৩২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আগের বছর পাঠিয়েছিলেন ২৪৫৩ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
এফডিআই
দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) বাড়ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-এপ্রিলে ১৪৩ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা ১১৪ কোটি ডলারে হয়েছে।
তবে আলোচিত দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক অবস্থায় নেমেছে। অর্থবছরে প্রথম ১০ মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নিট) যা এসেছিল তার চেয়ে ১৩ কোটি ২০ লাখ ডলার চলে গেছে। তার আগের অর্থবছরের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল (ঋণাত্মক) ১২ কোটি ৪০ ডলার।
.webp)