মৌসুমের শুরুতেই বিদেশে আম রপ্তানি শুরু হয়েছে দেশের আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। প্রথম চালানে ইতালিতে পাঠানো হয়েছে ২ টন আম। এতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন জেলার আমচাষি ও রপ্তানিকারকরা।
জ্যৈষ্ঠ মাসের মধুময় সময়ে বাজারে উঠেছে গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত, ফজলি, আম্রপালি, লক্ষণভোগসহ নানা জাতের আম। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৩০০ প্রজাতির আম উৎপাদিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুইট কাটিমনসহ রপ্তানিযোগ্য আমের চাষও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা ও আমচাষি শামীম রেজা সোহাগ জানান, ২০২২ সাল থেকে তিনি রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করছেন। ২০২৩ সালে ১২ টন এবং গত বছর ৩৫ টন আম বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। চলতি মৌসুমে শুক্রবার ইতালিতে প্রথমবারের মতো ২ টন আম রপ্তানি করেছেন। আগামী দিনগুলোতে আরও আম পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, তার বাগানে প্রায় ৫০ টন রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদিত হলেও সব আম বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয় না। ফলে কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের আম উৎপাদনে অতিরিক্ত খরচ হলেও স্থানীয় বাজারে তার যথাযথ মূল্য পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে মোবারকপুর এলাকার আমচাষি আল মামুন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি করছেন। সম্প্রতি জাপানের একটি প্রতিনিধি দল তার বাগান পরিদর্শন করে আমের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে চলতি বছর বিমান ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি ব্যয়ও বেড়েছে, যা রপ্তানিকারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ অনেক চাষি। বাগান পরিচর্যা, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বাড়লেও সে অনুযায়ী দাম মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের মাধ্যমে ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আমের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে রপ্তানি বাড়লে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বাড়বে।
বাম্পার ফলন, কম দাম এবং রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে আশা ও উদ্বেগের মধ্যেই মৌসুম পার করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিরা। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, রপ্তানির পরিমাণ বাড়লে কৃষকদের মুখে আবারও হাসি ফিরবে।
