তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, অতিষ্ঠ জনজীবন

 


জ্যৈষ্ঠের দাবদাহ যেন ক্রমেই আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে। মধ্য মে থেকে শুরু হওয়া তাপপ্রবাহ এখন দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বুধবার (৩ জুন) দেশের ৪৯টি জেলা তাপপ্রবাহের আওতায় ছিল। ফলে শহর থেকে গ্রাম সবখানেই গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।


গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অনেক এলাকাতেই ভ্যাপসা গরম মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।


আপাতত এই পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।


তবে গরমের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবরও আছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।


বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।


রাজধানীতে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনভর গরম ও আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে। যদিও বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে কোথাও কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবু তা সামগ্রিক তাপদাহ থেকে খুব বেশি স্বস্তি নাও দিতে পারে।


আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।


বর্ষা পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়া পর্যন্ত দেশের বড় অংশেই গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাইরে বের হলে পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন