পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শেয়ারদরে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এ বিষয়ে তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই)।বুধবার বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগ থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিএসইসির সহকারী পরিচালক জুয়েল হোসেন শেখ স্বাক্ষরিত চিঠিতে শেয়ারটির লেনদেন নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে।
কমিশন জানতে চেয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো ধরনের পরিকল্পিত যোগসাজশ, কারসাজি বা কৃত্রিম লেনদেন হয়েছে কি না। একই সঙ্গে অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সুবিধা নিয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ও তাদের প্রতিনিধিরা কমিশনের নির্দেশনা ও প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
বিএসইসি মনে করছে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে বাজারসংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তাই সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, নীতিপালন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের সচেতন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের জন্য চিঠির অনুলিপি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ এপ্রিল ডিএসইতে রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারদর ছিল ৩ টাকা ৯০ পয়সা। বুধবার ( ১৭ জুন) লেনদেন শেষে শেয়ারটির দাম দাঁড়ায় ৬ টাকা ৮০ পয়সা। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে শেয়ারটির দর প্রায় ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।এদিকে কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না।
সর্বশেষ ২০২০-২১ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য প্রকাশ করা হলেও এরপর আর কোনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোম্পানিটির বর্তমান আর্থিক অবস্থা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন না।
সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক তথ্যে দেখা যায়, ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান ছিল ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি। আগের হিসাব বছরে এ লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়ায় ১ টাকা ৬২ পয়সা, যা আগের বছরের ৩১ পয়সার তুলনায় অনেক বেশি। একই সময়ে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশও ঘোষণা করেনি।
২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রিজেন্ট টেক্সটাইলের অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৬ লাখ ১২ হাজার ১৩৭টি। এর মধ্যে ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে বাকি ৪০ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার।
