ইরান ইস্যুতে শেয়ারবাজারে বড় ধস

 


ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে।

লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। সব সূচক নিম্নমুখী হয়েছে, একই সঙ্গে কমেছে মোট লেনদেনের পরিমাণ।

রোববার (১ মার্চ) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ দাম বাড়ার তালিকায় থাকতে পেরেছে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠান। বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দর কমায় প্রধান সূচক একদিনে ১৩৮ পয়েন্ট নেমে যায়।

অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে, ফলে সূচকে বড় পতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমে আসে।

দিনের শুরুতেই ডিএসইতে বিক্রির চাপ তীব্র হয়। লেনদেন শুরুর পর প্রধান সূচক এক পর্যায়ে ২২৩ পয়েন্ট পড়ে যায়। পরে কিছু ক্রেতা সক্রিয় হলে পতনের গতি কিছুটা কমে, তবে শেষ পর্যন্ত বড় ক্ষতিতেই দিন শেষ হয়।

দিনশেষে ডিএসইতে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৩৫৩টির। ৬টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত ছিল।

১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ভালো কোম্পানির মধ্যে ৭টির দর বেড়েছে, ১৯২টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের ২টি কোম্পানির দর বেড়েছে, আর ৭৭টির কমেছে।

লভ্যাংশ না দেওয়ায় ‘জেড’ শ্রেণিতে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১টির শেয়ার দর বেড়েছে, ৮৪টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২টির দর বেড়েছে, ২৯টির কমেছে এবং ৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬১ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৯ পয়েন্টে নেমেছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৫২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে।

লেনদেনের পরিমাণও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে ছিল ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনে লেনদেন কমেছে ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে সিটি ব্যাংক-এর শেয়ার, যার লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ-এর লেনদেন ২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার।

লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশে আরও ছিল রবি, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, বেক্সিমকো ফার্মা এবং ঢাকা ব্যাংক।

সিএসইতে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৪৫ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টির দর বেড়েছে, ১৩৮টির কমেছে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার তুলনায় কম।

Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন