কেউ বুঝতে চায়না আমাদের সমস্যা, এখনও সমস্যার মধ্যদিয়ে যাচ্ছি। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করছি, জনগণ সেই প্রাইস দিতে রাজি না বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এমপি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বুয়েট) খেলার মাঠে আয়োজিত 'রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। নিজস্ব সম্পদের ওপর ভিত্তি করে টেকসই, স্থিতিশীল ও ন্যায্য জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজধানীতে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুতের ক্যাপাসিটি চার্জে হাত দেওয়ার মতো অবস্থা নেই, হাত দিলেই ব্যাংক দৌড়ে আসবে।পাওয়া স্টেশন বসে আছে সেখানে টাকা দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কিনতে পারছি না, জ্বালানি দিতে পারছি না। এলএনজির জন্য কাতারের উপর নির্ভরশীল ছিলাম, বোম্বিংয়ের কারনে কাতার বন্ধ করে দিল।১০-১২ ডলারের এলএনজি ৩০ ডলার দিয়ে কিনেছি। সরকার চারদিকে দিয়ে বাঁচতে পারে না।
তিনি বলেন,বেশিদামে কিনে বিদ্যুৎ দিয়ে যাচ্ছি, তবে ভালো দিতে পারছি এ কথা দাবি করবো না। বিশাল ঘাটতি রয়েছে, রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্রামে অনেক জায়গায় যাওয়ার রাস্তা নেই, ফল্ট খুঁজতেই দুই-তিন লাগে, তখন হয়ে যায় লোডশেডিং, মানুষ বুঝতে চায় না, এমনকি ডেপুটি স্পিকারও ছাড়েনি।
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে অনেকদিন ধরে কথা হচ্ছে, কিন্তু কোন সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার অল্পদিনের মধ্যে উদ্যোগ নিয়েছি। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেছে।
স্পেশাল জ্বালানি আইন পরবর্তী সংসদে উঠবে, বিশেষ আইন নিয়ে সমালোচনা আছে, আগের সরকার করেছিল চুরি করার জন্য। সৌর বিদ্যুতের সবকিছু ডিউটি ফ্রি করা হয়েছে। তবে গ্রিড নিয়ে চিন্তায় আছি, আমাদের গ্রিড আধুনিক নয়, এখানে পরমাণু, ফসিল ফুয়েল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি আসবে পিজিসিবি রেডি না, খুবই জটিল সিচুয়েশন। আপনারা যদি সহযোগিতা করেন তাহলে ২০৩০ সালের মাধ্যমে ১০ হাজার মেগাওয়াট করতে পারবো।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের ভূগর্ভে বিশাল সম্পদ রয়েছে কিন্তু বিগত ১৭ বছরে একটা কূপও খনন করা হয়নি। বিগত ১৭ বছরে যে ধরণের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ছিল এর জন্য আরও ৫০-৬০ বছর ভুগতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের ২০০১ -২০০৬ মাস্টারপ্ল্যান ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন সরকারি খাতে হবে ৬৫ শতাংশ।মানি মেকিং করার জন্য গত ১৭ বছরে পাল্টে দেওয়া হয়েছে। এখন ৭০ শতাংশ বেসরকারি, দুই একটা করা হয়েছে তাও যৌথভাবে।
মন্ত্রী বলেন, আমার দল জোর করে ক্ষমতায় থাকেনি, আমরা জোর করে ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকতে আসিনি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এতো ক্ষুদ্র জায়গায় নজরদারি করে ভাবতে পারবেন না। আমরা প্রতিদিন এমআইএস পাঠাই, পিএম বললেন এটা ঠিক নেই, পরে আরইবি ডাকলাম দেখলাম টেকনিক্যাল কারনে বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।
বুয়েট ভিসি প্রফেসর একরামুল হক বলেন, আমরা বিদ্যুৎ জ্বালানি খাত এখন সন্ধিক্ষণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি আমাদের অর্থনীতির উপর চাপ ফেলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই প্রয়োজন বোধ করছে, জ্বালানি নিয়ে নতুন গবেষণার। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদননের ৯৬ শতাংশ ফসিল ফুয়েল ভিত্তিক, এবং বেশিরভাগ আমদানি নির্ভর। এটি নানা কারনে ঝুঁকিতে রয়েছে।
একশনএইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বুয়েট), জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) ও বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (আইইএসডি) যৌথ আয়োজনে বুয়েটের কেন্দ্রীয় মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এটি। একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এই আয়োজনে তরুণ, নারী, শ্রমিক, নাগরিক সংগঠন ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করছেন এমন শহস্রাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস), বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ইআর), গ্রিনারি এনার্জি সল্যুশন লিমিটেড, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ), অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও দ্য আর্থ সোসাইটি। সরকারি নীতিনির্ধারক, গবেষক, বেসরকারি খাত, বিনিয়োগকারী, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে আয়োজন-পরবর্তী সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করাই এ অনুষ্ঠানের লক্ষ্য।
