এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে শেয়ার বিক্রির অভিযোগ


শেয়ারবাজারের ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে মার্জিন বিধিমালা লঙ্ঘন, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই শেয়ার বিক্রি এবং বেআইনিভাবে ফোর্সড সেল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) হস্তক্ষেপ চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাবেক এফবিসিসিআই পরিচালক ও বিনিয়োগকারী মো. আসলাম সেরনিয়াবাত।


রোববার (৫ জুলাই) বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগে বেআইনিভাবে বিক্রি করা শেয়ার ফেরত দেওয়া এবং পরবর্তী ফোর্সড সেল স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে।


বিনিয়োগকারী মো. আসলাম সেরনিয়াবাত জানান, এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই গত ১১ ও ১৪ জুন তার মালিকানাধীন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩৭৮টি শেয়ার বিক্রি করে দেয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা।


তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ১৮ জুন বিএসইসির কাস্টমার কমপ্লেইন অ্যাড্রেস মডিউলে (সিসিএএম) অভিযোগ (নং-২০২৬০৬২৩৪১২) করা হয়। একই অভিযোগ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জেও (ডিএসই) জানানো হয়েছে। এছাড়া ২৪ জুন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানটির কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।


অভিযোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আসলাম সেরনিয়াবাত জানান, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ তার ঋণ ও ইক্যুইটির অনুপাত ১:১-এ নামিয়ে আনতে নির্দেশ দেয়। তখন তার ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ২ লাখ ৯ হাজার ৮২০ টাকা। এর আগে ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর তিনি ৫ কোটি টাকা জমা দিলে তার ডিপোজিট দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ঋণ-ইক্যুইটির অনুপাত ১:০.৯২-এ নেমে আসে।


তার দাবি, এরপর ৩০ জুন পর্যন্ত তাকে আর কোনো মার্জিন কল নোটিশ দেওয়া হয়নি। ফলে ১১ ও ১৪ জুন পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রায় ৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৯(২) ও ৯(৪)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে তার হিসাবে কৃত্রিমভাবে বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতি সৃষ্টি করা হয়েছে।



তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে ৩০ জুন তাকে চূড়ান্ত মার্জিন কল দিয়ে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে ১ কোটি ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৪১৬ টাকা জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু একই দিন সকালেই তার আরও প্রায় ৬০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয়। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ সীমিত করতেই সময় নির্ধারণটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল বলে তিনি দাবি করেন।


এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমরা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করব। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) আব্দুল্লাহ আল মাসুম। তিনি বলেন, অভিযোগকারীর দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। বাস্তবতার সঙ্গে এসব অভিযোগের কোনো মিল নেই। নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কোনো প্রতিষ্ঠান ফোর্সড সেল করতে পারে না এবং বিএসইসির বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।


এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার হস্তান্তর, নেগেটিভ ইক্যুইটি, মার্জিন ঋণ, আর্থিক প্রতিবেদন এবং করপোরেট সুশাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। এছাড়া ২০২৪ সালে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ঘাটতি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন