শেয়ারের দাম ও লেনদেনে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স ও উসমানিয়া গ্লাস-এর শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।
সোমবার (১৩ জুলাই) দিনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য কোম্পানি দুটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি ইতোমধ্যে ডিএসই ও সিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা ছাড়াই সম্প্রতি কোম্পানি দুটির শেয়ারের দর ও লেনদেনে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা হিসেবে শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১৪ জুন প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১৪৬ টাকা ৩০ পয়সা, যা ৯ জুলাই বেড়ে দাঁড়ায় ১৭০ টাকা ৬০ পয়সায়। অর্থাৎ কয়েক কার্যদিবসে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ২৪ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ।
অন্যদিকে, ২২ জুন উসমানিয়া গ্লাসের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৩৭ টাকা ৩০ পয়সা। ৯ জুলাই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ টাকা ২০ পয়সায়। ফলে কয়েক কার্যদিবসেই শেয়ারটির দাম বেড়েছে ৩২ টাকা ৯০ পয়সা বা প্রায় ৮৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানি দুটির শেয়ার লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে, গত ২১ জুন ডিএসই ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স এবং ২ জুলাই উসমানিয়া গ্লাসের কাছে শেয়ারের দর ও লেনদেন বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে চিঠি পাঠায়।
জবাবে দুই কোম্পানিই জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই, যা শেয়ারের দাম বা লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থানে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র জানিয়েছে, শেয়ার দুটির দরবৃদ্ধির সঙ্গে কোম্পানিগুলোর বাস্তব ব্যবসায়িক অবস্থার কোনো সুস্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তাই এই দরবৃদ্ধির পেছনে গোপন তথ্যের ব্যবহার, সমন্বিত লেনদেন বা বাজার কারসাজির কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কোম্পানিগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।