হরমুজ সংকটে বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম


হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। জ্বালানি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।


ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়। সর্বশেষ বাজার তথ্য অনুযায়ী, রোববারের শুরুর লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। অথচ কয়েকদিন আগেই এর দাম নেমে এসেছিল ৭০ দশমিক ১৪ ডলারে, যা ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সর্বনিম্ন।


একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ইউএস ক্রুড-এর দামও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।



কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ভিজিটিং ফেলো ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ওমিদ শোকরি বলেন, চলমান সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা তেলের মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ঝুঁকির মূল্য যোগ করছেন, যা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮০ ডলারের ওপরে নিয়ে যেতে পারে।


তিনি বলেন, যদি সামরিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় অথবা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে।


ওমিদ শোকরির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে যতদিন আন্তর্জাতিক তেল ব্যবসায়ীরা ভঙ্গুর হিসেবে বিবেচনা করবেন, ততদিন বাজারে তেলের উচ্চমূল্য এবং মূল্য অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত থাকলেও বাজারে দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, তেলের উচ্চমূল্য কতদিন স্থায়ী হবে, তা কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর নির্ভর করবে না। বরং বৈশ্বিক বাজারে তেলের প্রকৃত সরবরাহ কতটা বিঘ্নিত হচ্ছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত দামের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন