গ্রামীণফোনের ১৮ লাখ টাকা জরিমানা

 


দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপির (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) দায়ে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধের জন্য গ্রামীণফোনকে নোটিশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।


সম্প্রতি জারি করা বিটিআরসির এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, গত ২১ এপ্রিল ও ১৯ মে ২০২৬ বিটিআরসি, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে গ্রামীণফোনের ১৮৪টি গ্রাহক সিম অবৈধভাবে ভিওআইপি প্রযুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশনে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।


এ ঘটনায় গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।


এর মধ্যে ২১ এপ্রিলের অভিযানে ১৬৪টি এবং ১৯ মে'র অভিযানে ২০টি সিম শনাক্ত করা হয়। জব্দ করা সিমগুলো তদন্ত ও আইনি কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।


বিটিআরসি বলছে, গ্রামীণফোন আইনের বিভিন্ন শর্ত শর্ত লঙ্ঘন করেছে। ফলে অবৈধ আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন প্রতিরোধে তারা লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি।


নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে তার প্রমাণপত্র বিটিআরসিতে জমা দিতে হবে। বিটিআরসির মতে, লাইসেন্সধারী মোবাইল অপারেটরদের দায়িত্ব হলো তাদের নেটওয়ার্কে অবৈধ আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন শনাক্ত, প্রতিরোধ ও বন্ধে কার্যকর প্রযুক্তিগত এবং স্ব-নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা চালু রাখা। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে এক অভিযানে অপারেটরটির ১ হাজার ৬৪০টি সিম উদ্ধার করা হয়। ২০২২ সালেও অবৈধ ভিওআইপির কারণে তাদের ৯৯ লাখ ৬২৫ টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগেও অবৈধ ভিওআইপি কারবারের মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির জন্য অভিযুক্ত হয় গ্রামীণফোন। সে সময় সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে ২০০ কোটি টাকা জরিমানা করে।

Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন