এখন আষাঢ় মাস। হুটহাট বৃষ্টি শুরু হওয়া যেন স্বভাব। এরপরও অফিস বা ব্যবসার কাজে প্রতিদিন বাসা-বাড়ির বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। এ সময় অনেকেই হালকা থেকে তীব্র বৃষ্টিতে ভিজে যায়। আবার গ্রামাঞ্চলে অনেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কৃষি কাজ করেন। ফলে পরবর্তীতে ঠান্ডা-সর্দি জ্বর আসার সম্ভাবনা থাকে।
এর বাইরে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই শখ কিংবা ভালো লাগা থেকে বৃষ্টিতে ভেজেন। বৃষ্টিতে ভিজে গোসল করতে ভালো লাগা থেকেই এমনটা করেন তারা। তবে বৃষ্টিতে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভেজার পর অধিকাংশ মানুষই আবার আলাদা পানি দিয়ে গোসল করেন। বলা হয়ে থাকে―এতে নাকি ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা কমে। কিন্তু সত্যিই কি তাই?
বৃষ্টিতে ভেজা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে থাকেন। কেউ বৃষ্টিতে ভেজার উপকারিতার কথা বলেন, কেউ আবার ক্ষতির কথা বলেন। এ নিয়ে অবশ্য নানা মত রয়েছে। তবে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃষ্টিতে ভেজার ব্যাপারে খোলামেলা কথা বলেছেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রুদ্রজিৎ পাল।
বৃষ্টিতে ভিজলে কি গোসল করা জরুরি:
ডা. রুদ্রজিৎ পাল বলেন, বৃষ্টিতে ভেজার পর গোসল করা ভালো। কিন্তু এই গোসলের জন্য যে ঠান্ডা লাগবে না, তা ভুল। ঠান্ডা লাগা বা না লাগার সঙ্গে পরে আবার গোসল করার কোনো যোগসাজশ নেই। এটি কেবলই প্রচলিত একটি ভুল ধারণা।
গোসল করার কথা বলা হয় কেন:
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শহরের বাতাসে প্রচুর দূষণ থাকে। এ জন্য বৃষ্টির পান যখন নিচে নামে, তখন সঙ্গে করে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক ও অ্যাসিড নিয়ে নামে। বৃষ্টিতে ভেজা হলে সেসব ক্ষতিকর উপাদান ত্বকে পড়লে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মূলত, সেসব উপাাদান ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। যা থেকে র্যাশ বা অ্যালার্জি হতে পারে। এ কারণে বৃষ্টিতে ভেজার পর গোসল করার পরামর্শ দেয়া হয়।
বৃষ্টির পানিতে কি ঘামাচি কমে:
অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, বৃষ্টির পানিতে ভিজলে শরীরের ঘামাচি বা হিট র্যাশ কমে। এটি সত্য নয়। এ ব্যাপারে ডা. রুদ্রজিৎ বলেন, ঘামাচি বা হিট র্যাশের সঙ্গে বৃষ্টির পানিতে ভেজার সংশ্লিষ্টতা নেই। স্বাভাবিক অর্থেই শরীর ঠান্ডা হলে র্যাশ কমে। এ জন্য বৃষ্টিতে ভেজার পর ঘামাচি কমতে দেখা যায়। তবে তা বৃষ্টির পানির গুণাগুণের জন্য নয়; শরীর ঠান্ডা হয় বলে ঘামাচি কমে। কেউ সাধারণ পানিতেও কিছুক্ষণ গোসল করলে ঘামাচি কমে।
