বনশ্রীতে মাদ্রাসাছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ: বলাৎকার ও প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার ১

 


রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার ও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রাতে পাবনার বেড়া উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানা-পুলিশ।

গ্রেপ্তার শিহাব হোসেন (১৯) বেড়া উপজেলার খাকছাড়া গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, মারা যাওয়া শিশুটির নাম মো. আবদুল্লাহ (১০)। সে বনশ্রীর সি-ব্লকের ‘আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা’র ছাত্র ছিল। গত ১৯ মে রাত ১০টার দিকে শিশুটি আত্মহত্যা করার খবর পেয়ে মাদ্রাসায় যায় পুলিশ। গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে লাশ পাঠানো হয়।

পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় শিশুটির শরীরে অস্বাভাবিক যৌনাচার বা বলাৎকারের আলামত পান পুলিশ কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা জানায়, মাদ্রাসার ছাত্র শিহাব হোসেন এর আগে ওই প্রতিষ্ঠানের আরও চারজন ছাত্রকে বলাৎকার করেছে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ১৯ মে থানায় শিহাবের বিরুদ্ধে মামলা করে।

পুলিশ জানায়, ১৯ মে আবদুল্লাহর মরদেহ পাওয়া যাওয়ার আগেই অভিযুক্ত শিহাব মাদ্রাসা ছেড়ে পাবনায় নিজের গ্রামের বাড়িতে পালিয়ে যান। রামপুরা থানা-পুলিশের একটি দল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্ত করে। গতকাল রাত ৮টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে আবদুল্লাহর মৃত্যুতে গতকাল বুধবার তার মা টুকু আরা খাতুন বাদী হয়ে রামপুরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার ধারায় (দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শিহাব হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন