আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে দেশের ট্যানারি শিল্প এবার প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ লাখ পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এই মৌসুমে ব্যাংক ঋণ বিতরণ প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় খাতটিতে অর্থায়ন সংকট তৈরি হয়েছে।
চলতি মৌসুমে রাষ্ট্রমালিকানাধীন তিনটি ব্যাংক ও কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক মিলিয়ে মোট প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ট্যানারি মালিকদের চলতি মূলধন ও চামড়া কেনার জন্য। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদার তুলনায় এই অর্থায়ন অপ্রতুল।
ট্যানারি মালিকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা থেকেই সংগ্রহ করা হবে মোট চামড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ। গত বছর ঢাকায় আনুমানিক ৭.৫ থেকে ৮ লাখ পিস চামড়া সরাসরি সংগ্রহ করা হয়েছিল।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কাঁচামাল ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা অনিশ্চয়তার কারণে এবার সংগ্রহ ও মূল্য উভয় ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংক মিলিয়ে: প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ঋণ
সোনালী ব্যাংক: সীমিত অনুমোদন, একটি ট্যানারিকে ২৫ কোটি টাকা
অগ্রণী ব্যাংক: মোট ৭৫ কোটি টাকা (দুটি ট্যানারিকে)
জনতা ব্যাংক: ৬০ কোটি টাকা অনুমোদন
রূপালী ব্যাংক: নতুন ঋণ সীমিত, বিদ্যমান সীমার কারণে অনেক আবেদন বাতিল
ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, পুরোনো ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ায় নতুন অর্থায়নে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকটি কাঠামোগত সমস্যাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী—
দীর্ঘদিন ধরে ট্যানারি ঋণ খেলাপি থাকা
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি
পরিবেশগত মান ও স্থানান্তরজনিত সমস্যা
রপ্তানি বাজারে চাপ ও মূল্যহ্রাস
ফলে নতুন ঋণপ্রাপ্তির সক্ষমতা অনেক প্রতিষ্ঠানের কমে গেছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, পরিবেশগত সমস্যা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে রপ্তানি আয় প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। পাশাপাশি লবণ, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি পিসে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঈদুল আজহা ঘিরে চামড়া সংগ্রহ দেশের অন্যতম বড় মৌসুমি অর্থনৈতিক কার্যক্রম হলেও এবার ব্যাংকিং সহায়তা ও বাজার পরিস্থিতি—দুটোই চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে ট্যানারি খাতে নগদ প্রবাহ, সংগ্রহ সক্ষমতা এবং মূল্য নির্ধারণ—সবকিছুই এবার চ্যালেঞ্জের মুখে।
