খেলাপি ঋণ ও আর্থিক দুর্বলতার কারণে ব্যাংক খাতে লভ্যাংশ বিতরণে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ২০২৫ সালে দেশের অর্ধেকের বেশি ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ বা তার বেশি হলে লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে না। পাশাপাশি মূলধন বা প্রভিশন ঘাটতি থাকলেও লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই নীতির কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১৬টি এবং দেশের মোট ৫২টি ব্যাংকের মধ্যে ১৮টি ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পেরেছে।
বর্তমানে ২৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২৯ শতাংশের বেশি বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভালো মুনাফা করা ব্যাংকের ক্ষেত্রেও লভ্যাংশ সীমিত রাখা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, লভ্যাংশ পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ বা নিট মুনাফার ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
তবে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক তুলনামূলকভাবে ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক। এছাড়া যমুনা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়াসহ কয়েকটি ব্যাংক বিভিন্ন হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক, একীভূত হওয়া কিছু ব্যাংক এবং অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এ বছর লভ্যাংশ দিতে পারেনি। ব্যাংক খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ভিত্তি শক্তিশালী করতেই এ নীতি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
