এখন খেলায় থাকবো, আওয়ামী লীগ এলে আবারও রাজনীতিতে ফিরবো: সাকিব আল হাসান


এখন খেলায় থাকবেন, আওয়ামী লীগ ফিরলে আবারও রাজনীতি করবেন বলে জানিয়েছেন অলরাউন্ডার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের দলের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নাই, সেহেতু চেষ্টা করছি ক্রিকেটটা খেলে যাওয়ার। দলের কার্যক্রম যখন শুরু হবে বা আমরা করতে পারবো, তখন হয়ত আবারও চেষ্টা করবো রাজনীতিটা করার। একটি ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। 

সাক্ষাৎকারটি নেচে তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে আছেন, দেশটাকে আসলে কতটা মিস করছেন?

সাকিব আল হাসান: স্বাভাবিকভাবে যেকোনো মানুষই যখন তার দেশে যেতে পারে না, তখন সে অবশ্যই দেশকে মিস করবে। আমার ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম নেই; আমিও দেশটাকে ভীষণভাবে মিস করছি। আশা করছি দ্রুতই দেশে ফিরতে পারব, সেটা হলে অবশ্যই ভালো লাগবে।

প্রশ্ন: আপনার এক বিশাল ফ্যান বেস আছে। বিগত সময়ে দেখা গেছে ভক্তরা আপনার জার্সি বা প্ল্যাকার্ড নিয়ে হেনস্তা হয়েও দমে যায়নি। তাদের এই ভালোবাসা কতটা অনুভব করেন?

সাকিব: টের তো পাই (ভক্তদের ভালোবাসা)। আমার কাছে হতাশাজনক এই জিনিসটা, যে এরকম কিছুও ঘটল। ভক্তদের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটা অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে আমি তাদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে তারা এমন পরিস্থিতির পরেও আমাকে সবসময় সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রশ্ন: বাস্তবতার নিরিখে আপনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কতটুকু?

সাকিব: আমি আশাবাদী,  সবসময়ই একজন আশাবাদী মানুষ ছিলাম। আইনি প্রক্রিয়াগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। এখন যত দ্রুত সম্ভব যদি আমি সমাধান করতে পারি…না না হলে হয়ত সময় লাগবে। কিন্তু আমি চেষ্টা করছি দ্রুত যেন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারি। এখন বিষয়গুলো যত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে, আমি তত দ্রুতই ফিরতে পারবো। 

প্রশ্ন: বিসিবি বা সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আপনার কোনো যোগাযোগ হচ্ছে কি? 

সাকিব: আমি যতটুকু জানি বিসিবির মাধ্যমেই যোগাযোগ হচ্ছে (ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে)। আমার সঙ্গে সরাসরি কোন যোগাযোগ হয়নি। আর বিসিবির সঙ্গে মাঝে মাঝে হয়, মাঝে মাঝে হয় না, এরকম অবস্থা। কাজেই নিজের উদ্যোগে সব কিছু করার চেষ্টা করছি। বাকিটা দেখা যাক। 

প্রশ্ন: আপনার ইচ্ছা কী—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা নাকি কোনো বিদায়ী ম্যাচ খেলে অবসর নেওয়া? 

সাকিব: এটা তো আসলে পরের বিষয় (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া) বা সেকেন্ডারি  বিষয়; আমার প্রথম অগ্রাধিকার হলো দেশে ফেরা। বিসিবি বা অন্যদের সাক্ষাৎকার ও মন্তব্যে আমি দেখেছি যে তারা চায় আমি আসি এবং খেলি। কিন্তু যেহেতু একটি আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তাই এগুলো শুধু মুখে বললে হবে না, বিষয়গুলো সমাধান করে আসতে হবে। যেহেতু আমি দূরে আছি, আমার হয়ে যদি এই কাজগুলো যদি বিসিবি করত, আমার জন্য সহজ হতো। আমি বলছি না একদমই করেনি, কিন্তু আরেকটু ভালোভাবে করা গেলে তাড়াতাড়ি সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। যেহেতু সেটা হয়নি, দেরি হচ্ছি আমি তাই আমার মতো করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এটার সমাধান করা যায়।

প্রশ্ন: বিসিবি ঠিক কোন পথে এগুলো সুবিধা হতো আপনার?

সাকিব: আইনি প্রক্রিয়া যেগুলো আছে, সেগুলো বিসিবির মাধ্যমে হলে জিনিসটা আরও তাড়াতাড়ি সমাধান হতে পারতো। বিসিবিরও সিদ্ধান্তের বিষয় আছে যে তারা এটা করবে কিনা, করতে চায় কিনা বা তাদের করার এখতিয়ার আছে কিনা। অনেকগুলো বিষয়ই আছে। হয়ত এভাবে করাটা সম্ভব হয় না। আমারটা যেহেতু আমাকেই করতে হবে। বাকিটা বললাম তো যে যে সাহায্যগুলো লাগে, তাদেরকে সেই অনুরোধটুকু করব। দেখা যাক আসলে কী হয়। 

প্রশ্ন: বর্তমানে বিসিবিতে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। এই পরিস্থিতিতে যোগাযোগ রক্ষা করাটা কি আপনার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে? 

সাকিব: আমি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছি না, এটা বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এখানে কে আছেন বা কে আসবেন সেটা বড় কথা নয়, বরং ওই পদ বা চেয়ারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হচ্ছে। পজিশন অনুযায়ী যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন, আমি তাদের সঙ্গেই কথা বলছি। এখন যারা আছেন তারাও বিসিবির অংশ, পরে যারা আসবেন তারাও বিসিবির অংশ। 

প্রশ্ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বর্তমান অবস্থা এবং বিশ্বকাপ খেলতে না পারা নিয়ে আপনার সতীর্থদের সঙ্গে কি কোনো আলোচনা হয়?

সাকিব: হ্যাঁ, অনেকের সঙ্গে কথাই হয়। ফোন দেয় অনেকেই, তখন তাদের সঙ্গে কথা তো হয়। বিশ্বকাপ না খেলাটা অবশ্যই হতাশাজনক। ওই সময় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসলে তার ওপর তো বিসিবি কথা বলতে পারে না। এটা সম্ভব ছিলো না। তৎকালীন সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের কারণেই আসলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যার দায় ওই সময়ের সরকারের ওপরেই বর্তায়। কারণ তাদের সিদ্ধান্তের কারণেই বিশ্বকাপ খেলাটা হয় নাই।

প্রশ্ন: খেলোয়াড়রা প্রচণ্ড বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন, তারা সেটা প্রকাশও করছিলেন নানাভাবে

সাকিব: স্বাভাবিক, বড় একটা টুর্নামেন্ট যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য এটা হতাশাজনক না খেলা। একটি বড় টুর্নামেন্ট বা বিশ্বকাপ খেলতে না পারাটা অত্যন্ত কষ্টের। ধরেন এবার যারা খেলত, পরের বিশ্বকাপে তাদের অনেকেই নিশ্চিতভাবে থাকবে না। তাদের মধ্যে যদি কারো এটা প্রথম বিশ্বকাপ হতো, দেখা গেলো তার আর বিশ্বকাপই খেলা হলো না কোনদিন। বিশেষ করে যাদের জন্য এটি প্রথম বা শেষ বিশ্বকাপ হতে পারত, তাদের জন্য আজীবন একটি আক্ষেপ থেকে যাবে।

প্রশ্ন: ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ থাকা এবং বোর্ড ও ক্লাবের মধ্যকার বিরোধ নিয়ে একজন সাবেক অধিনায়ক হিসেবে আপনার মন্তব্য কী?

সাকিব: একটা জিনিস আমি বুঝি এখানে একমাত্র ভুক্তভোগী হলো খেলোয়াড়রা, অন্য কেউ সাফার করছে না। খেলোয়াড়দের কষ্টটা কারো বোঝার ইচ্ছা আছে বলে আমার মনে হয় না। সবাই আসলে যার যার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত এবং খেলোয়াড়দের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ক্লাব যদি খেলতে না চায়, বিসিবি কি করবে। বিসিবি তাদের ম্যানেজ করতে পারছে না, এটা বিসিবির ব্যর্থতা। সব কিছু মিলেই একটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এর ভেতরে সাফার করছে শুধু খেলোয়াড়রা। 

প্রশ্ন: খেলোয়াড়রা তাহলে অসহায়..

সাকিব:: খেলোয়াড়দের আসলে তো কিছু করার নাই। ধরেন আমি ক্লাবের মালিক আমি বললাম খেলব না। এখন আপনি কী করবেন। আপনি বিসিবি হলে বড়জোর অনুরোধ করবেন। যারাই যেটা করছে তারা ক্ষমতা ধরার জন্য করছে। এর বাইরে তো কিছু না। এটার যৌক্তিকতা কতটা আছে পরের প্রশ্ন। তারা যদি মনে করে যৌক্তিক সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। এখানে বিসিবির করণীয় আছে। আসলে এক হাতে তো তালি বাজে না, সব দিক থেকেই হচ্ছে। খেলা শুরুর আন্তরিকতা না থাকলে আমি লীগ হওয়ার সুযোগ দেখি না। এখন সম্পর্কের জায়গা এমন অবস্থায় এসেছে যে মনে হয় না সহজ পথে কিছু হবে। আইনি পথে যদি হয়। 

প্রশ্ন: ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে ডিপিএল না হওয়ার প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে? 

সাকিব:: ১৫টি ম্যাচ খেলা একজন খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতার জন্য অনেক বড় বিষয়। ঢাকা লিগ আমাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে কি ফেলবে না তার চেয়ে বড় হলো প্রতিটা খেলোয়াড়ের জীবনে প্রভাব পড়ছে। এটা সব থেকে বড়। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও আর্থিক জীবনের ওপর এর প্রভাব। 

প্রশ্ন: আপনার বয়স ৩৯ ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় দলে না থাকলেও আপনি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলছেন। আর কতদিন খেলা চালিয়ে যেতে চান?

সাকিব: খেলার প্রতি আমার আগ্রহ এখনো আগের মতোই অটুট আছে, তাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেদিন দেখব আর আগ্রহ নেই, সেদিন নিজ থেকেই সরে দাঁড়াব।

প্রশ্ন: রাজনীতিতে নামলেন, সংসদ সদস্য হয়েও বেশিদিন কাজ করতে পারলেন না। আগামীতে আবার কাজের পরিস্থিতি পাবেন? 

সাকিব: রাজনীতি তো ধরেন আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে। যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট। এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি। আর রাজনীতি যেটা বলছেন, আমি মনে করি রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে। সব সময় থাকবে। পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না, পরিবর্তন হয়। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়। আমি আশা করছি ভবিষতে ভালো কিছুই হবে। 

প্রশ্ন: বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি কীভাবে দেখছেন? 

সাকিব:  একটা নতুন সরকার এসেছে, যেভাবেই আসুক। আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সামনে এখন বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এই মুহুর্তে আমার মনে হয় তাদের অনেক বড় দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। মুখে বলা আর কাজে করার পার্থক আছে। সবাইকে নিয়ে যদি কাজ করতে পারে তাহলে সমস্যা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হতে পারবে। যদিও বৈশ্বিক একটা সংকট, তবে বাংলাদেশের সংকটটা আরও বেশি অন্যান্য দেশের থেকে, প্রথম সারিতে আছে সংকটের দিক থেকে। এখানে উচিত সবাই মিলে কাজ করা। যারা রাজনীতিবিদ আছে তাদের দায়িত্ব  বাংলাদেশের মানুষকে একটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। কাউকে দূরে সরিয়ে রেখে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি না। আর গণতান্ত্রিক ধারাতেও এটা হয় না। আশা করি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে সব। 

প্রশ্ন: রাজনৈতিক মত পার্থক্য থাকলেও জাতীয় ইস্যুতে এক হওয়ার সংস্কৃতি কি বাংলাদেশে কোনদিন আসবে?

সাকিব: আমি তো আশাবাদী, কাউকে না কাউকে শুরু করতে হবে। এখন যারা শুরু করবে তারা অনেকদূর সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। এখন কে শুরু করবে দেখার বিষয়। 

প্রশ্ন: বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেশাদার খেলোয়াড়দের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

সাকিব: দেখুন আমার কাছে মনে হয় প্রতিটা বাংলাদেশের নাগরিকের এই ব্যাপারে নিজস্ব মতামত আছে। প্রধানমন্ত্রী উনার জায়গা থেকে যেটা ভালো মনে হয়েছে বলেছেন। এটা ওনার ব্যক্তিগত মতামত এবং আমি সেটিকে সম্মান করি।

প্রশ্ন: জুলাই আন্দোলনে নিহতদের নিয়ে আপনি যদি কিছু বলতে চান?

সাকিব: কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়, প্রতিটা মৃত্যুই বেদনাদায়ক। প্রতিটি জীবনই অমূল্য। আমি আগেও এটা বহুবার বলেছি। আমি চাই প্রতিটা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়ে বিচার নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু কাউকে যেন অন্যায়ভাবে ফাঁসানো না হয়। 

প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে আছেন বলে ব্যস্ততা আগের চেয়ে কম, কীভাবে কাটাচ্ছেন। 

সাকিব: এখন পরিবারকে সময় দেওয়া আর কী। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পাচ্ছি, বলতে পারেন সেটা ইতিবাচক এক দিক থেকে। যেহেতু আমাদের দলের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নেই, সেহেতু চেষ্টা করছি ক্রিকেটটা খেলে যাওয়ার। দলের যখন কার্যক্রম যখন শুরু হবে বা আমরা করতে পারব তখন হয়ত আবার চেষ্টা করবো রাজনীতিটা করার। 

প্রশ্ন: আগের ক্রীড়া উপদেষ্টার কঠোর অবস্থানের তুলনায় বর্তমান ক্রীড়া মন্ত্রীর নমনীয় মনোভাব কি আপনার ফেরার পথ সহজ করছে?

সাকিব:  বলতে পারি না, আইনি বাধাগুলো পেরুনোর সময় বোঝা যাবে সহজ হলো না কঠিন হলো। আমি নিজেই আইনি বাধা পেরুলে তো অন্য কিছু থাকছে না। আশা করি সব ফ্লেক্সিবল থাকবে। মূল বিষয় হলো আইনি বাধাগুলো অতিক্রম করা। এটা তো আপনারা সবাই দেখছেন আমার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো করা হয়েছে সেগুলোর কোনো প্রমাণ নাই, কোনো ভিত্তি নেই, এটা সবাই বলছে। যা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছে। বাংলাদেশের সিষ্টেমে চাইলে আপনি দ্রুততম সময়ে শেষ করতে পারেন আবার অনেক সময় নিয়ে শেষ করতে পারেন। এটা হচ্ছে আপনার সদিচ্ছার বিষয়। ভাবতে পারেন যে না, “একটা মানুষ আসলে কোনো অন্যায় করে নাই, তাকে শুধু শুধু সাফারার করার কোনো দরকার নাই।” কেবল আপনি আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে আমাকেও আক্রান্ত করবেন জিনিসটা আমার কাছে ভালো মনে হয় না। এরকম চলতে থাকলে দেশের কোন পরিবর্তন আসবে না। কিন্তু আশা করি…বর্তমান সরকারের সময় খুবই অল্প এখনো। তারা বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে দেখবে এবং যারা নিরপরাধ তারা যেন সঠিক বিচার পায়। এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যেই হবে। আগের কেউ সাফার করেছেন বলে এখন অন্যদেরও সাফার করাতে হবে—এই মানসিকতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

প্রশ্ন: আইনি বাধা পেরুলেও আপনার বিরুদ্ধ পক্ষ তো বাধা দিতে চাইবে।

সাকিব: দেখুন দুনিয়ায় কারোরই আসলে এক পক্ষ থাকে না। সবারই পক্ষ-বিপক্ষ দুইটাই থাকে। সব কিছু থাকার পরও আসলে সামনে এগিয়ে যেতে হয়, একটা দেশে থাকতে হলে সবাই মিলে থাকতে হয়। আমরা যেহেতু সবাই বাংলাদেশেরই নাগরিক, স্বাভাবিকভাবে একসঙ্গে থাকতে হবে। পছন্দ হতেই পারে, নাও হতে পারে। আমার অনেককে পছন্দ হয় না। অনেক সিদ্ধান্ত পছন্দ হয় না এর মানে এই না যে আমি তার ক্ষতি করতে যাব। কারণ আমি তো দুনিয়ার সবাইকে পছন্দ করব না এটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। এখন একজনকে পছন্দ না করলে কি আমি তার ক্ষতি করার জন্য লেগে থাকব? অন্তত আমি এগুলোতে বিশ্বাস করি না।  

প্রশ্ন: গত কয়েক বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা বা বিতর্ক কি আপনার চিন্তাভাবনায় কোনো পরিবর্তন এনেছে? 

সাকিব: মানুষ ভুল থেকেই শেখে, শিখতেই থাকে। সেই জায়গা থেকে আরও নতুন নতুন জিনিস শিখতে পারছি। 

Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন