ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বাকি সাত সিটি করপোরেশনেও শিগগিরই প্রার্থী ঘোষণা করবে দলটি৷ এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের জন্য এপ্রিলের মধ্যে প্রার্থী ঘোষণার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন দলটির নেতারা।
আজ রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ সিটিতে দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়৷ দলের আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন৷
নাহিদ ইসলামের ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে লড়বেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া৷ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।
এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজাল মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান নাহিদ ইসলাম।প্রার্থী ঘোষণার আগে নাহিদ ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় দেশের মানুষ নাগরিক সেবা পাচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই সেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। নতুন সরকার এসে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক বসিয়ে দিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তারা (বিএনপি) প্রশাসক নিয়োগের বিরোধিতা করলেও তাদের সরকারের সময় সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে!
বিএনপি সরকার সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারকেও দলীয়করণ করছে, কুক্ষিগত করছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, এ থেকে বের হতে দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন দিতে হবে। ছয় মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে দিয়ে দেওয়া সম্ভব এবং উচিতও৷ যাঁদের স্থানীয় সরকারের প্রশাসক করা হয়েছে, তাঁরা যাতে নির্বাচনে অংশ না নেন, সে ধরনের বিধিবিধানও থাকা উচিত৷
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীন সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সন্দেহের কথাও বলেছেন নাহিদ ইসলাম। তবে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমরা পাঁচটি সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করছি। অল্প সময়ের মধ্যে বাকি সাতটি সিটির প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হবে। উপজেলা-পৌরসভা নির্বাচনের প্রার্থীদের নাম এপ্রিলের মঘ্যে ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।’
এনসিপির পাঁচ দাবি
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন দলের সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন৷ এর মধ্যে প্রথম দাবিটি হলো আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব স্তরের স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে৷
সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের মতো উপজেলা-পৌরসভায়ও প্রশাসক দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে উল্লেখ করে কোনোভাবেই এগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ না দেওয়ার দাবিও তোলেন আখতার। এনসিপির তৃতীয় দাবি হলো স্থানীয় সরকারে যাদের প্রশাসক করা হয়েছে, তাঁরা যাতে সেসব জায়গায় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন। চতুর্থ দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকের বাইরে করা৷ আর দলটির পঞ্চম দাবি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও জনগণের জন্য অংশগ্রহণমূলক করা এবং স্থানীয় নির্বাচনে কারচুপি-অনিয়ম রোধে সবার জন্য সমান সুযোগ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা৷
এই পাঁচ দাবির বাইরে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করেন আখতার হোসেন৷ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে৷ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বা তাদের দোসররা অংশ নিতে পারবে না৷ এটা দাবি নয়, সিদ্ধান্ত৷ বিএনপি সরকারকে অক্ষরে অক্ষরে এটি পালন করতে হবে৷
এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন৷ পাঁচ সিটিতে এনসিপির ঘোষিত প্রার্থীরা ছাড়াও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন৷
