বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসানকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জানালেন নতুন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। কেবল একটি সিরিজের জন্য নয়, সাকিবকে অন্তত ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতে চান তিনি।
প্রধান নির্বাচক পদে নিয়োগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাকিব প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর থেকে সাকিবের ক্যারিয়ারে নেমে এসেছিল অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় দেশের মাটিতে ফিরতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে চাইলেও, নিরাপত্তা শঙ্কা ও তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে দুবাই থেকেই তাকে ফিরে যেতে হয়েছিল। এরপর গত দুই বছর ধরে জাতীয় দলের জার্সি তার কাছে ছিল অধরা।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাকিবকে আবারও জাতীয় দলে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিসিবির আইনি দল এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে সাকিবের মামলার জটিলতা নিরসনে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
সাকিবকে দলে ফেরানো নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো বা আবেগী সিদ্ধান্তে বিশ্বাসী নন প্রধান নির্বাচক। সামনেই নিউজিল্যান্ড সিরিজ, সেখানে সাকিবের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সুমন বলেন, 'সাকিব ঠিক কতখানি ক্রিকেটের মধ্যে আছে, তা নিয়ে আমিও নিশ্চিত নই। সাকিব কাল এসে পরশু খেলে ফেলবে না। ওর প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। এটি কোনো ইমোশনাল জায়গা না। ও যখন ফিরবে, তখন যেন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই ফেরে।'
সাকিবের বয়স ও দীর্ঘ বিরতি নিয়ে অনেক আলোচনা থাকলেও হাবিবুল বাশার মনে করেন, সাকিবের ভেতরে এখনো অনেক ক্রিকেট বাকি, 'সাকিবের সার্ভিস নিতে পারলে দল অবশ্যই উপকৃত হবে। আমি চাই সে লম্বা সময়ের জন্য আসুক। আমার মনে হয় সাকিবের আরও দুই বছর খেলার সামর্থ্য আছে। আমাদের পরিকল্পনা এমন হওয়া উচিত যেন সে অন্তত ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলে যেতে পারে।'
সাকিব আল হাসানকে 'জেনুইন অলরাউন্ডার' উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচক জানান, সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দলে থাকলে ভারসাম্য বজায় থাকে। এখন সাকিবের মামলার আইনগত সমাধান এবং মাঠের প্রস্তুতি—এই দুইয়ের সমন্বয়েই ঠিক হবে কবে নাগাদ লাল-সবুজের জার্সিতে আবার দেখা যাবে দেশের ইতিহাসের সেরা এই অলরাউন্ডারকে।
