প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা বন্ধের ঘোষণা ইরানের

 


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কোনো দেশ থেকে সরাসরি হামলা না হলে ভবিষ্যতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে আর লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শুক্রবার (৬ মাচ) দেশটির অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে যে হামলা হয়েছে, সে জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশও করেছেন।

যুদ্ধের শুরুতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) কয়েকটি দেশ ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এর মধ্যে ছিল সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান। এসব দেশে বা তাদের সীমান্তের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকার কারণেই হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে তেহরান।এ ছাড়া ইরাক, জর্ডান, আজারবাইজান ও তুরস্কেও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে এসব হামলার ফলে প্রাণহানি, অবকাঠামো ক্ষতি, আকাশসীমা বন্ধ এবং বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। পাশাপাশি তেল ও গ্যাস উৎপাদনেও বড় প্রভাব পড়েছে, যার প্রতিক্রিয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দেখা যাচ্ছে।

কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ চলতে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তার কথায়, জ্বালানির দাম বেড়ে যাবে, কিছু পণ্যের ঘাটতি দেখা দেবে এবং উৎপাদন শৃঙ্খলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ১ হাজার ২০০ জনের বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিপরীতে, যুদ্ধের মধ্যে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কুয়েতে। সেখানে ইরানের হামলায় একটি মার্কিন কমান্ড সেন্টার লক্ষ্যবস্তু হলে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন।


সূত্র: আল-জাজিরা

Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন