বিএসইসি পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা বিসিএমআইএ’র


পুঁজিবাজার রক্ষার্থে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনতিবিলম্বে পুনর্গঠন এবং বিনিয়োগবান্ধব বাজার গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমআইএ)। বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে ‘অযোগ্য ও অভিজ্ঞতাহীন’ আখ্যা দিয়ে তাকে অপসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংগঠনটির সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মানিক স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ আবেদন জানানো হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল। যার ফলে নির্বাচন পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক (ডিএসইএক্স) ২০০ পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি পায় এবং ঐদিন বাজার লেনদেন ১.২৭৫.০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে গঠিত কমিশনের নেতৃত্বে থাকা খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পুঁজিবাজার সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তিনি বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন এবং স্টান্ডার্ড ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালীন ব্যাংক দুটির অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে সকল আর্থিক সূচক এর পতন ও ঋণ খেলাপীর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

বিসিএমআইএ বলছেন,  একজন ব্যর্থ ব্যাংকার হিসেবে তার পুঁজিবাজার সম্পর্কে কোন ধরনের অভিজ্ঞতা ও ধারনাই নেই। বিগত ১৭ মাসের কার্যক্রম ও বাজারচিত্র থেকেই তার অযোগ্যতা প্রমাণিত হয়।

বিসিএমআইএ দাবি করেছে, নির্বাচনী ইশতেহার, ২০২৬ এ পুঁজিবাজার সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি মোতাবেক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনারকে অপসারণ করে যোগ্য, সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া। ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ ও জ্ঞাননির্ভর আধুনিক পুঁজিবাজার বিনির্মাণ। আস্থাশীল ও নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।

চিঠিতে আরো বলা হয়, সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং পুঁজিবাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিএসইসি-তে আমূল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। পুঁজিবাজার রক্ষার্থে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনতিবিলম্বে পুনর্গঠনপূর্বক বিনিয়োগবান্ধব ও আস্থাশীল পুঁজিবাজার গঠনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।


Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন