সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ফোন কলের মাধ্যমে কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আবদুস ছালাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘আউটসোর্সিং নীতিমালা ২০২৫’ উপেক্ষা করে এমডির এমন একতরফা সিদ্ধান্তে সংস্থাটিতে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে জারি করা ২০২৫ সালের আউটসোর্সিং নীতিমালা অনুযায়ী, সেবা গ্রহণ ও কর্মী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কমিটির অনুমোদন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ঢাকা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে দক্ষ কর্মীদের কর্মচ্যুত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অনেক কর্মীকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি না দিয়ে স্রেফ টেলিফোনের মাধ্যমে কাজে আসতে নিষেধ করা হচ্ছে, যা সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থী।
অভিযোগকারীরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে প্রশাসনের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কার মধ্যে প্রশাসনিক স্তরে এ ধরনের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে এসব বিষয়ে এমডির কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বলেও দাবি আন্দোলনরত কর্মীদের।
এমডির এই একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় ঢাকা ওয়াসা কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন রাজস্ব বিভাগের আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “কোনো নোটিশ বা কারণ দর্শানো ছাড়াই আমাদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে আমাদের পরিবারগুলোকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে এই অবৈধ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”
বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা না হয়, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবেন। প্রয়োজনে ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম স্থবির করে দেওয়ারও হুমকি দেন তারা।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আবদুস ছালাম ব্যাপারীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগী কর্মীদের দাবি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে অবিলম্বে উচ্চপর্যায় থেকে এই ঘটনার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
